পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, শুশ্রূষাহীন কোনো সম্পর্ক হতে পারে না!

  • জান্নাতুন নুর দিশা
  • জানুয়ারি ২৯, ২০১৯

কল দিয়েই যাচ্ছেন, দিয়েই যাচ্ছেন, দিয়েই যাচ্ছেন। ওপাশ থেকে রিসিভার উঠছে না। অনেকক্ষণ পর রিসিভ করে ভীষণ অবহেলা ভরে কন্ঠে কেউ একজন বলল, "বল!" আপনি উৎকণ্ঠিত কন্ঠে জানতে চাইলেন, "ভালো আছ? খেয়েছ? শরীর ভালো? ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি..."  ওপাশের কন্ঠ হুঁ, হ্যাঁ উত্তর দিয়ে রেখে দিল। তার হুঁ, হ্যাঁ শুনেই আপনি স্বস্তি নিয়ে ঘুমাতে গেলেন। তার কন্ঠ শুনলেই আপনি স্বস্তি পান। তিনি দুটো কথা বললেই আপনি আবেগে উদ্বেলিত হয়ে যান!

এ ধরণের কোনো সম্পর্কে আছেন? জাস্ট সরে আসুন! প্রতিনিয়ত নিজেকে একজন ব্যক্তিত্বহীন, মেরুদণ্ডহীন মানুষে পরিণত করবার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। আপনি ভাবছেন আপনি একটা মানুষের কেয়ার করছেন, ভালোবাসছেন, তার অবহেলা সহ্য করেও তার জন্য ভাবছেন, তার বিপদে ছুটে যাচ্ছেন, তার বিষণ্ণতা দূর করতে আপনি এক পায়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন সুতরাং আপনি মহৎ?

কিন্তু তিনি আপনার মহত্ত্বকে মূল্যায়ন করছেন তো? আজকাল আশেপাশে এমন অসংখ্য সম্পর্ক দেখা যায় একপক্ষ কেয়ার করেই যাচ্ছে করেই যাচ্ছে, অপরপক্ষ টোটাল কেয়ারলেস! এ ধরণের সম্পর্কগুলো কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ীও হয়, কিন্তু শেষ অবধি কখনোই টেকে না। একজন মানসিক শুশ্রূষাহীন মানুষ হয়ে বেঁচে থাকবেন না। আপনারও যত্নের প্রয়োজন রয়েছে, প্রয়োজন রয়েছে ভালোবাসার। অন্যের যত্ন করতে করতে মহাত্মা হবার প্রয়াসে ভুলে যাবেন না যার এবং যাদের যত্ন আপনি করছেন, তারাও যদি আপনার মূল্যায়ন না করেন তবে তা সম্পর্ক হয়ে ওঠে না কখনো, বড়জোর তা সমাজসেবা!

সমাজসেবা করতে চাইলে সমাজসেবা করুন, কিন্তু সমাজসেবাকে সম্পর্ক নাম দিতে যাবেন না। অনেককে এমন দেখেছি প্রেমিক/প্রেমিকা ভাবা মানুষটি পাত্তাই দিচ্ছে না, একশ জায়গায় ঘুরেফিরে এলেও আবার তাকে গ্রহণ করছে, ভালোবাসছে, দাম দিচ্ছে। বিনিময়ে কিছুই পাচ্ছেন না। আবার নিজের এই বোকামিকে মহত্ত্ব ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন।

দিনশেষে এই মানুষগুলি যে কি তীব্র মানসিক যন্ত্রণা, হতাশা নিয়ে বাঁচেন তা অকল্পনীয়! হোক প্রেমের সম্পর্ক, হোক বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার সম্পর্ক। পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, পারস্পরিক শুশ্রূষাহীন কোনো সম্পর্ক হতে পারে না। কখনো কখনো নিজেকে ভালোবাসবার তাগিদে অন্যকে ভালোবাসাটা নাহয় ছাড়ুন!

Leave a Comment