অন্যের মেয়ের যত্ন নিন, আরেকজন পুরুষ আপনার মেয়ের যত্ন নিবে।

  • ফারজানা আক্তার 
  • জানুয়ারি ১৬, ২০২০

মনে করুন আপনি একজন বিলিওনিয়ার। আপনার সাত পুরুষ বসে বসে খেলেও আপনার সম্পত্তি শেষ হবে না। আপনার স্ত্রী একজন গৃহিনী। তার কোন ভাই বোন নেই, অথবা ভাই নেই, অথবা ভাই থাকলেও ভাইয়ের আর্থিক অবস্থা ভালো না, বা ভাই বাবা মায়ের দেখাশোনা করে না।

সবথেকে বড় কথা ভাই থাকুক বা না থাকুক, বাবা মায়ের দেখাশোনা করুক বা না করুক প্রতিটি সন্তানের তো তার নিজ জন্মদাতা পিত মাতার দেখভাল করা উচিত, নাকি? আপনার স্ত্রী'র বাপের বাড়ির পরিবার মধ্যবিত্ত। আপনার শ্বশুর শ্বাশুড়ির শেষ বয়সে আর্থিক টানাপোড়ন চলছে। তখন তাদের সাহায্য করার জন্য আপনার স্ত্রীকে আপনার কাছে এসে টাকা চাইতে হবে। তাই না?

মনে নিলাম আপনি খুব ভালো মনের মানুষ। আপনার মতো ভালো মানুষ দুনিয়াতে একটিও নেই। তবুও আপনি কি জানেন আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার বাবা মাকে সাহায্য করতে আপনার স্ত্রীর মনের উপর কতটা প্রভাব পড়ে? আপনার স্ত্রীর বাবা মায়ের মন কতটা ছোট হয়ে যায়? বুঝেন আপনি?

এমনি মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে মেয়ের নিজের ইনকামের টাকাও মেয়ের বাবা মা নিতে চায় না। ছেলে মেয়ের ইনকামের টাকার উপর বাবা মায়ের পুরো হক আছে। এই কথা, সেই কথা বলে বুঝিয়ে শুনিয়ে তাদের হাতে দুই চার টাকা তুলে দেওয়া হয়। সেই জায়গায় মেয়ের জামাইয়ের টাকা কোন মেয়ের বাবা মা নিতে চাইবে না। নিজেরা না খেয়ে থাকলেও নিবে না। সে আপনি যত বড় ক্ষমতাওয়ালা আর টাকাপয়সাওয়ালা আর ভালো জামাই হন না কেন!

তাই আপনারা পুরুষেরা প্লিজ! মেয়েদের কাজ করার সুযোগ দিন। মেয়েদের কাজের পরিবেশ দিন। মেয়েদের বাহিরে কাজ করার জন্য মানসিক সাপোর্ট দিন। আপনি যেমন কষ্ট করে নিজের বাবা মায়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তেমনি আপনার স্ত্রীকেও তার বাবা মায়ের দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে উৎসাহিত করুন।

আপনারা পুরুষেরা, একবার নিজেকে শ্বশুরের জায়গায় বসিয়ে ভাবুন। আপনি হলে মেয়ের জামাইয়ের ইনকাম করা টাকা নিয়ে নিজের সংসার চালাতেন? নিজের মেয়েকে নিয়ে আপনি যেমন অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখেন আপনার শ্বশুরও আপনার স্ত্রীকে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছে।

অন্যের মেয়ের যত্ন নিন, আপনার মতো আরেকজন পুরুষ আপনার মেয়ের যত্ন নিবে।

Leave a Comment