‍‍`ভালোবাসা যখন যন্ত্রণাময়‍‍`

  • সুমনা বাগচী
  • জানুয়ারি ৩১, ২০২১

সকালে অফিস যাবার সময় বাড়ির সকলের আড়ালে চোখের নিচে জমাট বাঁধা ভালোবাসার চিহ্নতে ফাউন্ডেশন লাগাচ্ছে রাই। ঠোঁটের নিচে কাটা দাগ টাতেও ঘষে ঘষে তার খুব পছন্দের ম্যাক এর ফেস পাউডার দিয়ে দাগ মেরামতের কাজ করছে এক দক্ষ মিস্ত্রির মত! ঠোঁটে রুবি উ টা আজ আরো বেশি উজ্জ্বল। ফুল হাতা সালোয়ার কামিজ পরে রোজকার দিনের মতো কর্পোরেট অফিসে রওনা দিলো সে।

আজ মুহূর্তটা যেন থমকে গেছে। বিয়ের এক মাসের মাথায় ধ্রুব'র ভালোবাসার রূপটা আজ বড্ড এলোমেলো। রোজ রাতে মদ খেয়ে সে এক অন্য রূপ ধারণ করে। যার প্রতিফলন শুধুই যন্ত্রণা! রান্না ঘরে সৌপ্তিকের জন্য কষা মাংস রান্না করছে লুনা. আজ অফিস থেকে ফিরলেই লুচি আর মাংস খেতে দিয়ে ঘুমের ওষুধ টা খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরবে সে। আশা করি আজ সে রেহাই পাবে সারা গায়ে সৌপ্তিকের ভালোবাসার দাগ সিগারেটের ছ্যাকা আর সেফটিপিন এর ফোটানো থেকে!

আরো পড়ুনঃ ব্লাডপ্রেসার স্বাভাবিক রাখতে খাবারের তালিকায় এই ৩ খাবার রাখবেন

যাকে কলেজ থেকে দেখে শান্ত আর ভালো মনের মানুষ হিসাবে বড় মুখ করে বাড়িতে বাবা মাকে সে জানিয়েছিল আজ তার সেইখানে ফিরে গিয়ে মুখ দেখানো দায়। কারন আজ সারা গায়ে শুধুই দাগ! বিদেশী সিনেমার ধরন অনুযায়ী সম্পা বাধ্য রোজ রোজ তার মদ্যপ স্বামীকে শারীরিক সুখ দিতে! এর জন্য হাজার যন্ত্রণার সাক্ষী সে। রক্তাক্ত আর ক্ষত বিক্ষত তার শরীর আর মন, আর নিস্তার চাইলে জুটবে অকথ্য গালি আর বেল্ট এর দাগে জর্জরিত শরীর। ছোট মেয়েটা যদি আওয়াজ শুনতে পায়। তাই ঠোঁট কামড়ে থাকে সম্পা! নিজের দাঁত বসে একটা দাগ হয়ে গেছে তার ঠোঁটে।

মলিনা দেবীর বয়স প্রায় পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই...বাতের ব্যথার তিনি প্রায় পঙ্গু হয়ে গেছেন। কোনো ভাবেই স্বামীর কিছু বিকৃত ইচ্ছাতে সামিল হতে পারেন না তিনি! চোখের সামনে কাজের মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর মেলামেশা দেখে নির্বাক থাকতে বাধ্য তিনি। নয়ত ১৪ বছরের মেয়ের প্রতি তার বাবার কুদৃষ্টি আকর্ষণের পরিণতি জানেন তিনি। তাই তিনি আজ বোবা কালা ও অন্ধ হয়ে গেছেন।

আরো পড়ুনঃ ব্লাডপ্রেসার স্বাভাবিক রাখতে খাবারের তালিকায় এই ৩ খাবার রাখবেন

এ তো ভারী মজা, বন্ধুর বউয়ের সঙ্গে শারীরিক ভাবে লিপ্ত হওয়া যাবে। বেড়াতে যাওয়ার দৌলতে বউ পাল্টাপাল্টি করে বেশ অন্যরকম মজা তো! দুই চেনা পুরুষ আজ অজানা দুই অবলা নারীর কাছে, চোখের কোণে একরাশ বাষ্প ধূমায়িত সেই নারী দুটির! আবার সেই ভয়াবহ অনুভূতি....

এই ঘটনাগুলি শুধু গল্প না, গল্পের আড়ালে ঘোর বাস্তব.. এরকম ভাবে প্রতিনিয়ত এক এক জন নারীর সাথে ঘটছে এই রকম যন্ত্রণাময় ভালোবাসার ঘটনা। কাউন্সেলিং করতে করতে কখনো কখনো থমকে যাই মনুষ্যত্বের রুচি দেখে! যেখানে নারীর পরিচয় একটা পুতুল। তাকে যেভাবেই খেলানো যাবে সে খেলবে, নইলে জুটবে অকথ্য অত্যাচার! কখনো মনে মনে ভাবছি এ কোন যুগে আছি আমরা? এ কোন শিক্ষা সংস্কৃতি? মনে আছে ইউনিভার্সিটিতে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর রিসার্চ করতে একজন মায়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল।

আরো পড়ুনঃ সুস্থ শিশুর ৭টি চিহ্ন জানুন, মায়েদের জানা জরুরী!

যিনি স্বামীর প্রতি বিরক্ত আর বিদগ্ধ তার ব্যবহারে। কারণ নিজ সন্তানের সাথে সে প্রত্যেকদিন চায় যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে! কিন্তু মা হিসাবে বোবার মত থাকতে বাধ্য তিনি। কারণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নেই তার। এই রকম যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে কখনো ভেবে দেখেছেন, আমাদের আমিত্ব কোথায়? শুধু স্বামী ও সংসারে আপনার কতটা আত্মতৃপ্তি ঘটছে? রোজ মনের সাথে কতটা সংঘর্ষ করতে সমর্থ আপনি?? আর কত দিন বোবা থাকবেন? বাঁচুন মন ভরে, হাসুন প্রাণ খুলে।

এই ভাবে দম বন্ধ হতে থাকলে আপনি একটা জীবিত মমি হিসাবেই গণ্য হবেন। এই ভাবে অত্যাচার মেনে নেওয়া একই অপরাধের সামিল হওয়া। ভেবে দেখুন বন্ধু.. নয়তো অনেক দেরী হয়ে যাবে। প্রতিবাদ কাম্য। কারণ আমরা পুতুল নই।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Comment