কর্মক্ষেত্রে সফল নারীদের জীবনে ডিভোর্স কেন বেশি ? 

  • ফারজানা আক্তার 
  • জানুয়ারি ২০, ২০২২

এক গবেষণা বলছে, কর্মজীবী নারীদের জীবনে বিচ্ছেদ বেশি। অন্য গবেষণা বলছে, কর্মক্ষেত্রে সফল নারীদের বিচ্ছেদ বেশি। আবার অন্য আরেকটি গবেষণা বলছে চাকরির সর্বোচ্চ পদে যাওয়া নারীদের জীবনে বিচ্ছেদ বেশি। 

এক মিনিট! যারা নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার বিপক্ষে তাদের খুশি হওয়ার কারণ নেই। কারণ গবেষণা আরেকটি কথা বলেছে। কর্মক্ষেত্রে সফল নারীদের একবার বিচ্ছেদ হয়ে গেলে অন্য নারীদের তুলনায় তারা পুনরায় সম্পর্কে জড়ায় কম। অনেকে বিয়ে করে তবে টাইমপাসের উদ্দেশ্যে তারা কোন সম্পর্কে জড়ায় না। 

তার মানে গবেষণা বলছে কর্মক্ষেত্রে সফল নারীদের একবার বিচ্ছেদ হয়ে গেলে তারা নতুন কোন সস্পর্ক থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখে। অথবা পুনরায় কোন সম্পর্কে যেতে হলেও সিরিয়াস সম্পর্কে যায়। শুধুমাত্র সময় কাটানো তাদের উদ্দেশ্য থাকে না। 

আরো পড়ুন : আপনার সন্তানকে মানুষ করতে কাজগুলি করুন

বুঝতে পেরেছেন! এখানে চরিত্রহীনতা বা প্রতারণার কথা কিন্তু নেই। এবং এটাই বাস্তব। গভীর জীবনবোধ সম্পূর্ণ নারীদের একবার কোন বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়া কঠিন। 

কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষজন কী বলে ?

বসের সাথে সম্পর্ক করে উচ্চপদে গিয়েছে অথবা বউ বেশি টাকা আয় করে; তাই বেশি টাকাওয়ালা অন্য কোন পুরুষকে বিয়ে করার জন্য আগের বরকে ছেড়ে দিয়েছে অথবা চাকরি করার কারণে বউয়ের অহংকার বেশি হয়েছে ইত্যাদি। 

এই রকম দুই একটি ঘটনা যে ঘটে না তা কিন্তু নয়! কিন্তু এক্সসেপশনাল কখনো এক্সাম্পল হতে পারে না। 

কর্মক্ষেত্রে সফল নারীদের জীবনে ডিভোর্স কেন বেশি ? এবং কেন তারা একবার বিচ্ছেদের পরে পুনরায় সম্পর্কে জড়াতে চায় না ?

আরো পড়ুন : সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পিতা-মাতার ভূমিকা

যে নারী পরিশ্রমী এবং যার অনেক স্বপ্ন আছে; স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রতি যার একাগ্রতা আছে সেই নারীর আত্মসম্মান আছে। যার আত্মসম্মান আছে সে কখনো অন্যের কাঁধে ভর করে নিজের স্বপ্ন সত্যি করতে চাইবে না। অন্য কারো উপর নির্ভরও করবে না। 

সে নিজের মেধা, দক্ষতা এবং পরিশ্রম দ্বারা লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। তার এই চেষ্টার সময় কেউ একজন তাকে সাহস দিবে, এপ্রিশিয়েট করবে, তার পরিশ্রমের প্রতি ভরসা রাখবে; এটাই স্বামীর কাছ থেকে বেশিরভাগ কর্মজীবী নারীর চাওয়া। 

আরো পড়ুন : শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে মা-বাবার জন্য পরামর্শ

এই সামান্য চাওয়াটাই হয় না অধিকাংশ নারীর পাওয়া। সবথেকে কঠিন সময়ে কাছের মানুষের সাপোর্ট না পেয়ে একা লড়াই করে মানসিকভাবে নারীরা অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠে। নারীর এই একা লড়াই করার মানসিকতাকে প্রায় সকল পুরুষেরা ভয় পায়। 

সফল হওয়ার প্রথম ধাপে বেশিরভাগ নারীদের তার সংসার ছাড়তে হয়। ভালোবেসে ভরসা করার পর সেই জায়গাটা যখন একবার নষ্ট হয়ে যায়; পুনরায় আবার কাউকে ভালোবেসে ভরসা করা কঠিন হয়ে যায়। এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী মেয়েদের জন্য এই বিষয়টা অনেক বেশি কঠিন। সকলকিছু মেনেও নিতে পারে না, মনেও নিতে পারে না। 

আরো পড়ুন : আপনার সন্তানকে প্রতিদিন বলা উচিত এই ৭টি কথা

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Comment