মালয়েশিয়াকে অনেকে ভালোবেসে মিনি এশিয়া ডাকে! কেন জানেন?
- ইয়াসিন প্রধান সাজিদ
- মে ১১, ২০১৮
এশিয়ার অন্যতম একটি দেশ হলো মালয়েশিয়া। এশিয়ারই বুকে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে এই মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দিক থেকে। তেরটি রাষ্ট্র এবং তিনটি ঐক্যবদ্ধ প্রদেশ নিয়ে গঠিত এই মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার দেশ। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুর এবং আরেকটি রাজধানী ফেডারেল সরকারের রাজধানী হলো পুত্রজায়া। মালয়েশিয়ার মোট আয়তন হলো ৩,২৯,৮৪৫ বর্গ কিঃমিঃ। মালয়েশিয়া আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এই বিভক্তটা করেছে দক্ষিন চীন সাগর। একটি ভাগ হলো পেনিনসুলার মালয়েশিয়া আরেকটি পূর্ব মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার মোট জনসংখ্যা হলো ২৮ মিলিয়নেরও অধিক।
মালয়েশিয়ার স্থল এবং সমুদ্র সীমান্তে কিছু দেশ রয়েছে। স্থল সীমান্তের দিকে রয়েছে ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া। আর সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন হলো সমুদ্র সীমান্তের সাথে। মালয়েশিয়ায় রয়েছে এমন অনেক আশ্চর্য স্থান বা বিষয়বস্তু যা অনেক পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। আশেপাশে আলোড়ন তুলেছে এমন অনেক জায়গার মধ্যে অন্যতম একটি হলো পেট্রোনাস টাওয়ার। এটি একটি বহুতল ভবন। পেট্রোনাস টাওয়ার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত। পেট্রোনাস টাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় (১৯৯৮-২০০৪) পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উচু স্থান হিসেবে গন্য করা হতো।
আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে মালয়েশিয়াতে তার পরে আছে পেনাং। মালয়েশিয়ার উত্তর পশ্চিম উপকূলের রাজ্য এই পেনাং।মালয়েশিয়ার মতো এইটিও দুভাগে বিভক্ত। একটি শুধুই পেনাংদ্বীপ, আরেকটি রাজধানী। পেনাং শিল্পোন্নত হওয়াতে মালয়েশিয়ায় এটি অন্যতম অর্থনৈতিক প্রদেশ এবং পর্যটনদের আকর্ষনীয় কেন্দ্র। ১০৪ টি দ্বীপমালা নিয়ে গঠিত হয়েছে আন্দমান সাগর, যা মালয়েশিয়ার উত্তর পশ্চিম উপকূল থেকে ৩০ কিঃমিঃ দূরে। দ্বীপগুলি মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশের অন্তর্গত। সবচেয়ে বড় দ্বীপটিও লইংকাওয়ে দ্বীপ নামে পরিচিত। দ্বীপে যাতায়াতের শুধুমাত্র ব্যবস্থা হচ্ছে বিমান অথবা ফেরী।
দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রের দেশ মালয়েশিয়া। ভালোবেসে অনেক মানুষ একে মিনি এশিয়াও বলে। নানা ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতির মানুষের দেশ মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অনেক ভালো। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তন হয়না। সবসময় ই স্বাভাবিক মাত্রার আবহাওয়া বিরাজ করে মালয়েশিয়ায়। মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন রকম ধর্ম, বর্ণের মানুষ আছে, আর তাদের জন্য বিভিন্ন রকম খাবারের আয়োজন ও আছে। অনেক উচ্চমানের খাবারও জনগণের সুবিদার্থে কম দামেই পাওয়া যায়। এতো বৈচিত্র্যময় খাবারের মেলা বলে,,,এশিয়ার খাদ্য স্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশটি।
মালয়েশিয়া দেশটি এশিয়াতে শিল্পের দিক দিয়ে আসলেই অনেক এগিয়ে আছে। তাই বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা মালয়েশিয়াতে তাদের ক্যারিয়ার বাড়াতে চলে আসছে। মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম নামে বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। সেখানে সেকেন্ড হোম হিসেবে বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশীরা তৃতীয় অবস্থানে। বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষকরা বলেছেন, "মালয়েশিয়া এই ব্যাপারে টাকা নিয়ে কোনো কথা বলেনা, আর তাই-ই বাংলাদেশীরা তার সুযোগ নিচ্ছেন।",বাংলাদেশের ৩ হাজার ৫৪৭ জন মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম এ আছে। ১ম স্থানে আছে চীন, আর ২ য় জাপান। চীনের প্রায় ৮ শতাধিক মানুষ মালয়েশিয়ার আশ্রয় কেন্দ্র এলাকায় নিজের সেকেন্ড হোম বানিয়েছে। ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের মানুষের তৈরী নির্দিষ্ট অনেক এলাকা গড়ে উঠেছে।
মালয়েশিয়ায় বিদেশী নাগরিকদের টাকার উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয়না। বিদেশী নাগরিকেরা অনেকেই অবৈধ টাকার মালিক বলে সেগুলো নিজ দেশে কাজে লাগাতে পারে না বলে মালয়েশিয়াতেই তাদের বাড়িঘর বানিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আবার তাদের সম্পদ বা কর্মের যথাযথ মূল্য না পেয়ে তা মালয়েশিয়াতে এনে ঠিকভাবে চালাচ্ছে। সকলেরই বিভিন্নরকম লক্ষ্য। তবে অনেক মানুষই মালয়েশিয়ার শিল্পের মাধ্যমেই ধনী হতে পেরেছে। সবমিলিয়ে বলা চলে, এশিয়ার অনেক উন্নত, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, পর্যটন কেন্দ্র সবদিক দিয়েই মালয়েশিয়া অনেক এগিয়ে।





