শিশুর যেসব ওষুধ ঘরে রাখা জরুরি

  • ওমেন্সকর্নার ডেস্ক:
  • ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮

যেসব পরিবারে শিশু রয়েছে তাদের ঘরে কিছু দরকারি ওষুধ সব সময় রাখা ভালো। এতে আপৎকালীন নানা জটিলতা এড়ানো যায়। শিশুর যেসব ওষুধ ঘরে রাখা অতি জরুরি সেগুলো হলো-

প্যারাসিটামল: জ্বর সারার কার্যকর ওষুধ প্যারাসিটামল, যা ট্যাবলেট, ড্রপস, সিরাপ, সাপোজিটরি ইত্যাদি ফর্মে পাওয়া যায়। তবে শিশুদের জন্য সিরাপ আর সাপোজিটরি দরকার হয় বেশি। সাধারণত ১০ কেজি ওজনের শিশুর জ্বর হলে তাকে এক থেকে দেড় চামচ প্যারাসিটামল সিরাপ দেওয়া যেতে পারে, জ্বরের তারতম্য অনুযায়ী। আর সাপোজিটরি আড়াই শর তিন ভাগের দুই ভাগ অথবা বেশি জ্বর হলে পুরোটা। সাপোজিটরি একটু বেশি দিতে হয়, কারণ অনেক সময় তা বেরিয়ে যায়।

অ্যান্টিহিস্টামিন: এই ওষুধ সর্দি-কাশি, এলার্জির জন্য বেশ উপকারী। ফেক্সোফেনাডিন বা অন্য কোনো সিরাপ রাখা যেতে পারে।

ড্রপ: নাকের ড্রপ রাখা উচিত। তবে বেশির ভাগ ব্যবহার করা হয় স্যালাইন পানি। নজোমিস্ট, নরসল, সলো ইত্যাদি নামে বাজারে রয়েছে।

ক্যালামিন লোশন: কোনো কিছু কামড় দিলে বা এলার্জি হলে এটা সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োগ করলে বেশ কাজে দেয়। তবে চোখের আশপাশে যেন না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

খাবার স্যালাইন: এটি খুব দরকারি ওষুধ। শিশুদের বমি, পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে এটা প্রয়োগ করা যায়। নিওস্যালাইন নামের ওরস্যালাইনটি বাজারে বেশ প্রচলিত। আরো আছে টেস্টি স্যালাইন, ওরস্যালাইন ইত্যাদি। তবে নিয়ম অনুযায়ী পানির সঙ্গে গোলাতে হবে। অনেকে অল্প পরিমাণ স্যালাইন নিয়ে অল্প পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ান, যা মারাত্মক ভুল। এতে লবণের পরিমাণ বেশি হয়ে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

ওরস্যালাইন খাওয়ানোর সহজ নিয়ম হলো যতটুকু পানি পায়খানার মাধ্যমে বের হয়ে যাচ্ছে সেই পরিমাণ স্যালাইন পানি পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লেস করলেই হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছে কি না। বমির জন্য ডমপেরিডন গ্রুপের ওষুধ ড্রপ ফর্মে যেটি পাওয়া যায় তা রাখা যেতে পারে। এর সাপোজিটরিও রয়েছে।

এ ছাড়া লোকাল অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা মলম, কিছু ড্রেসিং সরঞ্জাম রাখা যেতে পারে। শিশুদের নিয়মিত মলত্যাগ না হলে গ্লিসারিন সাপোজিটরিও রাখা যেতে পারে।

ওষুধ রাখার কিছু নিয়ম:

- বড় বাক্স ভরে বেশি ওষুধ রাখার দরকার নেই। বরং পরিমাণে কম, অতি প্রয়োজনীয় এবং মানসম্মত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ঘরে রাখলেই চলে।

- ওষুধের বাক্সটি তিন বা ছয় মাসের মধ্যে পরিষ্কার করা ভালো।

- ওষুধ রাখার স্থানটিও গুরুত্বপূর্ণ। রোদ লাগে এমন জায়গায় ওষুধ রাখা উচিত নয়।

- কাগজের বাক্সে ওষুধ রাখলে ভেজা ভেজা থাকে, তাই সফট বা নমনীয় বাক্সে রাখা ভালো।

- কিছু কিছু ওষুধ রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজে রাখতে হয়।

- শিশুদের নাগালের মধ্যে কোনো ওষুধ রাখা উচিত নয়।

- প্যাকেটের ভেতরে থাকা ব্যবহারবিধি ফেলে দেওয়া ঠিক নয়।

টি/আ

Leave a Comment