সিফিলিস (Syphilis) কী? প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

  • রেজবুল ইসলাম
  • এপ্রিল ২৮, ২০১৮

সিফিলিস হল একটি যৌন সংক্রমণ বাহিত অসুখ, যা ট্রিপোনেমা প্যালিডাম জীবাণু থেকে হয়ে থাকে৷ সিফিলিস এক ব্যক্তি থেকে আর এক ব্যক্তির শরীরে সিফিলিসের ক্ষতের সরাসরি সংস্পর্শে হয়৷ এই ক্ষত সাধারণত পুরুষাঙ্গ, যোনি, মলদ্বার বা মলাশয়ে হয়৷ এই ক্ষত ঠোঁটে বা মুখের ভেতরেও হতে পারে৷ গর্ভবতী মহিলাদের সিফিলিস হলে তা গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সংক্রামিত হতে পারে৷ কমোডের সীট, দরজার হাতল, সুইমিং পুল, গরম জলের টব, বাথটব, একই জামাকাপড় পরা বা বাসন ব্যবহার করা থেকে সিফিলিস ছড়ায় না৷

সিফিলিস রোগের জীবানুর নাম ট্রেপনোমা প্যালিডাম। সিফিলিস আক্রান্ত কারো সাথে যৌন মিলনে এই রোগ হয়ে থাকে, তবে রোগীর রক্ত গ্রহনের মাধ্যমেও এই রোগ হয়। আবার গর্ভাবস্থায় মায়ের সিফিলিস থেকে থাকলে সন্তান সেখান থেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ভূমিস্ট হয়ে থাকে। সাধারণত আক্রান্ত কারো সাথে যৌন মিলনের ২-৪ সপ্তাহ পরে এই রোগের লক্ষন গূলো দেখা দেয়। 

রোগের প্রকোপ অনুসারে এই রোগের চারটি ধাপ আছে। সেগুলো হল:

১. প্রাইমারিঃ এই অবস্থায় আক্রান্ত হবার তিন সপ্তাহের মধ্যেই রোগীর শরীরে পোকার কামড়ের মত গোল গোল দাগ দেখা যায়। মাঝে মাঝে এগুলা ব্যাথাহীন এবং শক্ত হয়ে দেখা দেয় । একে শ্যাঙ্কার বলা হয়।

২. সেকেন্ডারিঃ এই অবস্থায় সাধারনত শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চুল্কানির র্যাশের মত হয় এবং নিয়মিত জ্বর, ওজন কমে যাওয়া এবং লিম্ফ্যাটিক গ্ল্যান্ড ফুলে যায় । এছাড়া কুঁচকিতে ভেজা ফোস্কার মত দেখা দিতে পারে।

৩. ল্যাটেনটঃ এই অবস্থায় রোগ সুপ্ত অবস্থায় থাকে।

৪. টারশিয়ারিঃ এটা অনেকদিন চিকিৎসা না করলে হয়। এই অবস্থায় রোগীর হার্ট , চোখ, ব্রেইন এবং নার্ভে সিরিয়াস সমস্যা দেখা দেয় এবং রোগী সাধারনত বাচে না। এসকল লক্ষন বা উপসর্গ দেখা দিলে সিফিলিস টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত হন আপনার সিফিলিস হয়েছে কিনা।


Syphilis Rash
 

চিকিৎসাঃ এই রোগটি এতই ভয়ঙ্কর যে চিকিৎসা না করে ফেলে রাখলে ভয় পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। আর এ রোগটি এমনই যে মানুষ এর কথা গোপন করেই রাখতে চায়। আর এর বেশি ভুক্তভোগী হয় মেয়েরা। কারন তারাই বেশি রোগ গোপন করে রাখতে পছন্দ করে। এ রোগের চিকিৎসায় নিম্নোক্ত ওষুধ গুলা ব্যাবহার করা হয়:

1.penicillin G injection

2.Ceftriaxone

3.Doxycyclin

4.Azithromycin.

প্রতিরোধঃ

১. যৌন সঙ্গীর সিফিলিস আছে কিনা নিশ্চিত হন।

২. সিফিলিস থাকলে অবশ্যই, জোর করে হলেও চিকিৎসা করান।

৩. সিফিলিস আক্রান্তদের সাথে কোন ধরনের যৌন কারযক্রমে যাবেন না। কনডম ব্যাবহার করেও না।

৪. কমার্শিয়াল সেক্স ওয়ার্কার দের কাছে যাবেন না।

৫. রোগীকে ঘৃণা করবেন না, রোগকে ঘৃণা করুন।

৬. এই রোগ কোনক্রমেই পুষে রাখবেন না।

৭. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খাবেন না।

ভাল থাকবেন। আপনাদের সুখী সুন্দর জীবনই আমার কাম্য।

আর/এস

Leave a Comment