নাকের পলিপ নিয়ে কিছু কথা

  • ওমেন্সকর্নার ডেস্ক 
  • নভেম্বর ১১, ২০১৮

ন্যাজাল বা নাকের পলিপ বলতে সাধারণভাবে নাকের ভেতরের এক ধরনের মাংসপিণ্ডকে বোঝানো হয়। এটি দুই নাকেই হতে পারে এবং দেখতে স্বচ্ছ, নাক এবং সাইনাসের আবরণী কোষ হতে উৎপন্ন হওয়া আঙ্গুর ফলাকৃতির এক ধরণের মাংসপিন্ডই পলিপ । এগুলো সাধারণত মসৃণ এবং ফ্যাকাসে বা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে।

পলিপ হওয়ার কারনঃ সাধারনত পলিপ অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে। যাদের হাঁচি থাকে, সর্দি থাকে, তাদের মূলত পলিপ বেশি দেখা দেয়। হাপানি, চোখ চুলকানো নাক চুলকানোর কারণেও পলিপ দেখা দিতে পারে। তবে মূলত অ্যালার্জির কারণে দেখা দেয় পলিপ। এছাড়া বিভিন্ন ইশফেকশনের কারণে পলিপ হতে পারে।

নাকে পলিপ হলে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে :

- নাক বন্ধ থাকা, এক বা দুই নাসারন্ধ্র একসঙ্গে বন্ধ থাকতে পারে

- নাক দিয়ে পানি পড়া

- বেশি হাঁচি পাওয়া

- নাকে কোনো গন্ধ না পাওয়া

- মাথাব্যথা থাকা

- নাকিসুরে কথা বলা

- মুখ হা করে ঘুমানো

চিকিৎসাঃ নাকের পলিপের জন্য আপনাকে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। এই রোগের চিকিৎসা হলো অপারেশন। অপারেশন করলে সাধারণত নাকের পলিপ ভালো হয়ে যায়। তবে এই পলিপ বার বার হতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে কয়েকবার অপারেশন করা লাগতে পারে। তবে, এলার্জি থেকে দূরে থাকলে এই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। সেক্ষেত্রে,অপারেশন ছাড়া অবশ্যই পলিপের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে আগে পলিপ কোন অবস্থায় আছে সেটা দেখতে হবে। ধুলা-বালি, গরম এবং অ্যালার্জির কারণের পলিপ হতে পারে। সেজন্য আগে পলিপ হওয়ার কারণ নির্নয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষুধ সেবন করতে হবে। চিকিৎসকরা যে খাবারগুলো খেতে নিষেধ করেছেন তা খাওয়া যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষুধ সেবন করলে পলিপ ভালো হয়ে যেতে পারে।

বিনা অস্ত্রোপচারে পলিপের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব নয়। তবে অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ঔষুধের মাধ্যমে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের ফলে পলিপের ফোলা ভাব কিছুটা কমে আসতে পারে। এ ছাড়া পলিপের চিকিৎসায় প্রাথমিক অবস্থায় স্টেরয়েড জাতীয় স্প্রে নাকে ব্যবহার করা হয়, এতেও পলিপের আকার ছোট হয়ে আসতে পারে। আধুনিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারে নিরাময়ের হার বেশ ভালো।

Leave a Comment