কলিক বেবি, শিশুর অস্বাভাবিক কান্না
- রেজবুল ইসলাম
- ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৮
শিশু জন্মের শুরুতেই কান্না কাটির মাধ্যমেই সবাইকে জানাই সে পৃথিবীতে এসেছে। শিশুরা কান্না করবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কারন শিশু বয়সে বাচ্চার কান্নাই হল তার ভাব প্রকাশের মাধ্যম। খিদে পেয়ে, অস্বস্তি অনুভব করলে তারা কান্নার মাধ্যমেই বাবা মায়ের কাছে তাদের অনুভুতি প্রকাশ করে। কিন্তু শিশুর ২/৩ সপ্তাহ বয়স থেকে শুরু হয়ে ৩ মাস পর্যন্ত একধরনের বিশেষ কান্না আছে। সারাদিন ভালো থাকলেও তারা বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে কান্না শুরু করে দেয়। আর এই কান্না অবিরাম চলতেই থাকে। কান্না করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। এবং প্রতিদিনই তাদের এই অবস্থা চলতে থাকে। চিকিৎসার ভাষায় একে ‘ইনফ্যান্টাইল কলিক’ বলা হয়।
কলিক বেবির কিছু লক্ষণ:
* বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে অবিরাম কান্না শুরু করে দেয়া।
* কান্নার সাথে সাথে পা উপরের দিকে ছুঁড়তে থাকা বা কুঁচকে যাওয়া।
* খাবার দিলে দুই-এক ঢোক গিলে আবার কান্না শুরু করা।
* কান্না থামানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলে, কিছু সময়ের জন্য কান্না থামিয়ে আবার কান্না করা। অনেক বেবি পেটে ব্যথার কারণে কান্না করতেই থাকে। এজন্যই এটি আবার, ‘তিন মাসের পেট ব্যথা’ বা ‘থ্রি মান্থস্ কলিক’ নামেও পরিচিত।
প্রতিকার:
(১) বাচ্চা যদি কোন কিছুতে বিরক্ত হয় তবে তা থেকে তাকে দূরে রাখুন। বিশেষ করে বিকেলে এবং সন্ধ্যার দিকে। বেশী মানুষজন এ সময় বাচ্চার কাছে না আসায় ভালো। খেয়াল করুন বাচ্চা কিসে বিরক্ত হচ্ছে এবং তা থেকে যথাসম্ভব তাকে দূরে রাখুন।
(২) বাচ্চার চার পাশের পরিবেশ শান্ত রাখুন। আলো কমিয়ে দিন, যথাসম্ভব মৃদু স্বরে কথা বলুন বা একবারেই কথা বলবেন না। অন্য শব্দ যতটুকু সম্ভব কম করুন।
(৩) বাচ্চা কান্না শুরু করলেই সাড়া দিন। গবেষণায় দেখা গেছে বাচ্চার কান্নায় সাড়া দিলে পরবর্তীতে তা বাচ্চার কান্না কমাতে সাহায্য করে।
(৪) আপনার বাচ্চা যদি বুকের দুধ খায় তবে চিকিৎসক এর সাথে পরামর্শ করে এলারজি বা গ্যাস উদ্রেককারী কিছু কিছু খাবার খাওয়া বাদ দিতে পারেন।বাচ্চা ফর্মুলা খেলে চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী ফর্মুলা পরিবর্তন করে দেখতে পারেন।





