একজন সফল কৃষক ফরিদপুরের সাহিদা বেগম!

  • ওমেন্স কর্নার ডেস্ক
  • ডিসেম্বর ৪, ২০২০

ফরিদপুর কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এর পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী কৃষকদের তালিকায় উজ্জ্বল এক নাম - সাহিদা বেগম। একজন সফল কৃষক তিনি। । এই বছর পেঁয়াজের বীজ বিক্রি বাবাদ তার আয় চার কোটি টাকা আর উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তিন কোটি টাকা। ফরিদপুর পৌরসভার গোবিন্দপুর গ্রামে সাহিদা বেগমের বাড়ি। স্বামী মো. বক্তার হোসেন খান একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। দুই মেয়ে নিয়ে এই দম্পতির সুখি সংসার।

আরো পড়ুনঃ চিংড়ি পিঠা

বড়ো মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছোটো মেয়ে শিক্ষারত এখনো। সাহিদা বেগমের কৃষি উদ্যোগে সব সময় সাপোর্ট করেন তার স্বামী। বক্তার হোসেন কৃষক পরিবারের সন্তান। সাহিদা বেগমের বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি এসে গৃহস্থালির কাজের সাথে পরিচিত হন। হাসিমাখা মুখে তিনি বলেন, ‘কৃষিকাজ এত পরিশ্রম আর ধৈর্যের কাজ যে শুরুতে ভালো লাগত না। কিন্তু একটা সময় পেঁয়াজের বীজ নিতে আসা ক্রেতাদের উৎসাহ আর আগ্রহ সে কষ্ট আর কষ্টই মনে হয় না।

সকালে নাস্তার পর মাঠ তদারক করতে বের হন তিনি। কখনো দুপুরে ফেরা হয় কখনো মাঠেই সারেন দুপুরের খাবার। বাড়ির পাশের একজনকে পেঁয়াজবীজ চাষ করতে দেখে উৎসাহি হন তিনি।বর্তমানে পৈতৃকসূত্রে চার একর জমির মালিক সাহিদা বেগমের স্বামী। সেটা সহ আরো জমি এলাকাবাসীর কাছ থেকে ইজারা কিংবা বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন তিনি। ‘খান বীজ’ নামে মোড়কজাত করে নিজের উৎপাদিত পেয়াজ বীজ বিক্রি করেন তিনি।

আরো পড়ুনঃ চুলের কন্ডিশনার ব্যবহার করলে কি চুলের ক্ষতি হয়?

সাহিদা বেগম বলেন, পেঁয়াজের বীজ পেতে ছয় মাস জমিতে কাজ করতে হয়। দেশজুড়ে লকডাউনের সময় নিয়মিত শ্রমিক না পেলেও এলাকার একটি তুলা মিলের অর্ধশত কর্মহীন নারী এবছর তাঁরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে সাহিদা বেগমের দেখাদেখি এলাকার আরো অনেকেই পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা সাহিদা বেগম এখন অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকের জন্যেও অনুপ্রেরণার নাম। সাহিদা বেগম আরো অনেকটা পথ এগিয়ে যাক। স্বপ্নের পিছু ছুটে চলা তার মতো সকলের জন্য শুভ কামনা।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Comment